
প্রকাশক : জামাল হোসেন
সম্পাদক: তানজিলা / নিবার্হী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাচ্চু / আইন উপদেষ্টা: গোলাম মাওলা শান্ত
সুইটি আক্তার, মাদারীপুর: মাদারীপুরে ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে লাপাত্তা মাফিয়া মাহবুল ফরাজিসহ ৬জন। দালালের খপ্পরে পড়ে টাকাও সন্তান হারিয়ে দিশেহারা নিখোঁজ সলেমান বেপারীর পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলার নতি সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার পেয়ারপুর ইউনিয়নের নয়াচর এলাকার মাহবুল ফরাজি (৪৬) নামে এক মানবপাচারকারী। একই গ্রামের মুনসুর বেপারী নামে এক কৃষকের -ছেলে সলেমানকে দীর্ঘদিন ধরে ২২ লক্ষ টাকা দিলে ইতালিতে সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে পাঠানো চাকরিসহ বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে আসছিল, মাফিয়া মাহবুল ফরাজি।
অবশেষে রাজি না হওয়ায়, ঐ একই কাজে যুক্ত সহযোগী হিসেবে আরও ৫ জন,মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সহজসরল কৃষক মুনসুর বেপারীকে বুঝাতে পিছু নেয়। অবশেষে সহজসরল কৃষক মুনসুর বেপারী একই গ্রামের প্রতিবেশি ও মানবপাচারকারী ৬জনের মিষ্টি কথার প্রতারনা ফাঁদে পড়ে যায়। পরে মানবপাচারকারী মাফিয়া মাহ বল ফরাজি,এবাদুল বেপারীসহ ৫ মানবপাচারকারীর হাতে গত, ২০ সেপ্টেম্বর ২২ লক্ষ টাকা দেয় মুনসুর বেপারী ।
২৪ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২ ঘটিকার দিকে মুনসুর বেপারীর -ছেলে সলেমানকে ইতালির উদ্দেশ্য সরাসরি ফ্লাইটের কথা বলে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে উঠিয়ে দেয় । বিমানটি শ্রীলংকা এয়ারপোর্টে গিয়ে অবতরণ করলে।
সেই খান থেকে মুনসুর বেপারীর ছেলে সলেমানকে ডুবাই ফ্লাইটে উঠিয়ে দেয় ঐ খানে থাকা মাফিয়াদের সদস্যরা। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় লিবিয়ার ত্রিপোলিতে। এরপর থেকে শুরু হয়, লিবিয়ার মাফিয়াদের বন্দী ঘরে আটকে রেখে সলেমানকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং সেই ভিডিও কৃষক মুনসুর বেপারীর পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ১০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন চায় মাফিয়া মাহবুল ফরাজিসহ ঐ ৬জন – ছেলের উপর অমানবিক নির্যাতনের ভিডিও চিত্র দেখে, কৃষক মুনসুর বেপারী, কয়েকটি এনজিও থেকে কিস্তি উঠিয়ে আবারও ১৩ লক্ষ টাকা দেয় মাফিয়া ঐ ৬ জরেন হাতে।
এরপর ২০ দিন হয়ে যায় কৃষক মুনসুর বেপারীর ছেলে সলেমানের কোনো খোঁজ খবর না পেয়ে,১০ ডিসেম্বর ঐ মাফিয়া মাহবুল ফরাজির বাড়ি তার কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে আপনার ছেলের সঙ্গে কথা বলতে হলে আরও ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে,নয় সলেমানকে লিবিয়ার মাফিয়া মেরে ফেলবে। এমন কথা শুনে বুকে চাপাকান্না রেখে মুনসুর বেপারী মাফিয়া মাহবুল ফরাজিকে বলে আমার ছেলেকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে এনে দাও আমার ছেলেকে ইতালি পাঠানো লাগবে না।
একথা শুনে মাফিয়া মাহবুল ফরাজি বলে ঠিক আছে যে ৫ লক্ষ টাকা দিতে বলছিঐ টাকা দেন, এমন কথা শুনে বুক ভরসা কষ্ট নিয়ে কৃষি মুনসুর বেপারী বাড়ি চলে যায়। ৫ ডিসেম্বর ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে মাফিয়া মাহবুল ফরাজির হাতে দিলে তিনি বলেন, কাল দুপুরে আপনাদের সাথে কথা বলাই দিব সলেমানের সাথে। এরপর থেকে মানবপাচারকারী মাফিয়া মাহবুল ফরাজি, এবাদুল ফরাজি,মলিনা বেগম, আজাদ বেপারী, মাহমুদা বেগম, সোহেল এরা ৬ জনেই লাপাত্তা। একদিকে ছেলে হারানো শোক অন্য দিকে জায়গায় জমি, ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা লিবিয়ায় নিখোঁজ সলেমানের পরিবার।
ভুক্তভোগী মুনসুর বেপারী বলেন, আমি ঐ মাফিয়া মাহবুল ফরাজিসহ তাদের কথা বিশ্বাস করে আমার ছেলে ও টাকা জায়গায় জমি ঘরবাড়ি সবি হারিয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছি।
তাই, আমি চাই আমার ছেলের মতো আর কারো ছেলে যেন, এই সব মানবপাচারকারী মাফিয়াদে খপ্পরে পড়ে না হারায়, সে-ই জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ এই সব মানবপাচারকারী মাফিয়াদের কে খুজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।
নয়াচর এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম, সালাম খাঁ, ফিরোজ ঘরামীসহ সবাই বলেন, মাহবুল ফরাজি, এবাদুল বেপারিসহ এরা ৬ জনেই এলাকার থেকে আরও অনেক ছেলেদের এমন সরাসরি ফ্লাইটে ইতালি পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়ে লিবিয়া নিয়ে নির্যাতন করে টাকা আদায় করে আসতছে, কয়েক মাস আগেও একজন এমন নির্যাতনের শিকার হয়ে একপর্যায়ে ১ কোটি টাকার বিনিময়ে দেশে ফিরে এসেছে। এই মুনসুর বেপারী একজন সহজসরল মানুষ তাকে ও আজ নিঃশেষ করে দিল, আমরা এদের কঠোর বিচার দাবি করছি,যে এদের দেখে আর কেউ এই সব মানবপাচারকারী মাফিয়া কাজে লিপ্ত না হয়।
মন্তব্য করুন