জুতার বাড়ি খেয়ে আত্মগোপনে আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক পেশকার শহিদুল!

দৈনিক দখিনের কন্ঠ
প্রকাশিত October 21, 2026, 08:52 AM
জুতার বাড়ি খেয়ে আত্মগোপনে আওয়ামী লীগের দোসর সাবেক পেশকার শহিদুল!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসের বহুল বিতর্কিত ও দুর্নীতিবাজ সাবেক পেশকার শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন সাধারণ ভুক্তভোগীরা। জালিয়াতি ও ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

৮ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েও কাজ না করায় বাধ্য হয়ে এক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যেই শহিদুলকে জুতার বারি দিয়ে নিজের দীর্ঘদিন জমে থাকা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্য ও দুর্নীতি সাম্রাজ্য
অবৈধ সম্পদের পাহাড়:

অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বরিশাল সেটেলমেন্ট অফিসকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলেন এই পেশকার। জমিজমা সংক্রান্ত জরুরি কাজের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তিনি কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। রাজধানী ঢাকার শেওড়াপাড়া, আমিনবাজার এবং পটুয়াখালীতে তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।

সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা:

শহিদুল ইসলামের অপকর্ম ও দুর্নীতির খবর কোনো সংবাদকর্মী সংগ্রহ বা প্রকাশ করতে গেলে তার বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে প্রভাবশালী এই পেশকারের বিরুদ্ধে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আত্মগোপন
ভুক্তভোগীর হাতে প্রকাশ্যে জুতার বারি খাওয়ার পর এবং দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষিতে জনরোষ ও সম্ভাব্য আইনি ঝামেলা এড়াতে শহিদুল ইসলাম বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ

শহিদুল ইসলামের মতো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা—যাঁরা সাধারণ মানুষের রক্ত-পানি করা টাকা লুটপাট করে কোটিপতি হয়েছেন, তাঁদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে এক সাধারণ নাগরিক বলেন, “আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—অনতিবিলম্বে সাবেক পেশকার শহিদুল ইসলামের অবৈধ সম্পদের নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগীদের খোয়ানো টাকা উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।”
সংবাদ প্রতিবেদকের মন্তব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক পেশকার শহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Facebook Comments Box