নিজস্ব প্রতিবেদক:
শারদীয় দুর্গোৎসবকে আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে সরকার দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য ভিজিএফ বা জিআর প্রকল্পের আওতায় অনুদান হিসেবে চাল বরাদ্দ দিয়ে থাকে। উদ্দেশ্য থাকে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের বৃহত্তম এই উৎসবে সহায়তা প্রদান। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বরিশাল সদর উপজেলায় প্রতিটি মণ্ডপের বিপরীতে বরাদ্দকৃত ৬০০ কেজি করে সরকারি চাল সরাসরি কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে—সরকারের দেওয়া এই ত্রাণসামগ্রী কি পূজার আনন্দ বাড়াতে, নাকি একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার জন্য?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বরিশাল সদর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মণ্ডপের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের অনুকূলে এই চালের ডিও (ডিও অর্ডার) বা ছাড়পত্র প্রদান করার কথা। কিন্তু মাঠপর্যায়ের একাধিক সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দ পাওয়ার পর পরই একটি প্রভাবশালী চক্র মণ্ডপে চাল না পাঠিয়ে কিংবা নামমাত্র কিছু চাল নামিয়ে বড় একটি অংশ সরাসরি কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে।
দুর্গোৎসবের আনন্দ উদযাপনের জন্য যেখানে সরকারি এই চাল মণ্ডপগুলোর চালচিত্র বদলে দেওয়ার কথা, সেখানে তা চলে যাচ্ছে অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের গুদামে। সাধারণ পূজা কমিটি ও মণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এর প্রতিবাদ করতে গিয়েও ওই সিন্ডিকেটের চাপের মুখে নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারের এই অনুদান যদি সরাসরি পূজারিদের কল্যাণে বা মণ্ডপের উন্নয়নে না পৌঁছে মাঝপথেই আত্মসাৎ হয়ে যায়, তবে কার পকেট ভারী করতে এই বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে? গরিব ও উৎসবমুখর মানুষের হক এভাবে যারা হরিলুট করছে, তাদের পেছনে কারা মদদ জোগাচ্ছে—তা নিয়ে এখন তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের মাঝে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের দুর্নীতি কেবল সরকারের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করে না, বরং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং উৎসবের পবিত্রতাকেও মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অবিলম্বে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে চাল আত্মসাৎকারী সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং প্রতিটি মণ্ডপে চাল বিতরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।