নিজস্ব প্রতিবেদন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৭১নং চরকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বেবি ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, সরকারি ফিডিং কর্মসূচির আত্মসাৎ ও সরকারি সম্পত্তি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এসব অনিয়মের প্রতিকার ও প্রধান শিক্ষিকার অপসারণের দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় জমিদাতার ওয়ারিশগণ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষিকা বেবি ইয়াসমিন সরকারি নিয়ম না মেনে ও স্থানীয় জমিদাতাদের না জানিয়ে গোপনে পকেট ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিতে মোজাম্মেল নামে একজনকে সভাপতি করা হয়েছে, যিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি মেডিকেলে চাকরি করেন এবং এলাকায় থাকেন না।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সরকারি ফিডিং কর্মসূচিতে ভুয়া তথ্য দিয়ে খাবার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকায় থাকা নিজের নাতিদের নামে ভুয়া নাম-রোল ব্যবহার করে তিনি এ সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ের ছাত্র ও এলাকার সর্বসাধারণের জন্য বসানো সরকারি গভীর নলকূপটিতে ব্যক্তিগতভাবে মোটর লাগিয়ে নিজের বাসায় ব্যবহার করা, যার ফলে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বিশুদ্ধ খাবার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এমনকি বিদ্যালয়ের পুরনো টিন দিয়ে তিনি পার্শ্ববর্তী মসজিদের জায়গা ঘেঁষে নিজের বাড়ির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রধান শিক্ষিকা ইতিপূর্বেও তার স্বামী নান্নু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে পার পেয়ে গেছেন। ২০২৪ সালে বেশ কিছু পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলে নলছিটি শিক্ষা অফিস নামমাত্র তদন্ত করলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বজায় রাখতে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতিমুক্ত করতে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা বেবি ইয়াসমিনকে দ্রুত অপসারণ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনগণ ও জমিদাতার ওয়ারিশগণ। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা বেবি ইয়াসমিনের কাছে মোবাইল জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব অভিযোগ মিথ্যা ও আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।