
প্রকাশক : জামাল হোসেন
সম্পাদক: তানজিলা / নিবার্হী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাচ্চু / আইন উপদেষ্টা: গোলাম মাওলা শান্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশাল নগরীতে ৩২ পুড়িয়া গাঁজাসহ গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জামিনে মুক্তি পাওয়া আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সোহাগী বেগমকে ঘিরে নগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জামিনে মুক্ত হয়েই ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃত সোহাগী বেগম (৩০) বরিশাল নগরীর রসুলপুর এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা রেজাউলের স্ত্রী। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে রয়েছ একাধিক মাদক মামলা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। অভিযানে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকায় অবস্থিত সোহাগী বেগমের বসতঘর থেকে ৩২ পুড়িয়া গাঁজাসহ তাকে আটক করা হয়।
তবে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ হওয়ার আগেই, ১ জানুয়ারি, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে যান বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই সোহাগী বেগম জামিনে মুক্ত হয়ে ফের মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়েন। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে জামিন পাওয়ার বিষয়টি এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
এবিষয়ে অনুসন্ধানে গিয়ে জানাযায়, রসুলপুর এলাকার কমলা ও তার স্বামী জসিম, মাছু ও তার স্ত্রী কাজল, মিতু, পূণ্যি, দিপু, আলামিন ও তার স্ত্রী জুলি, লিমা ও তার স্বামী, খুকু নাসির, মজু, বাপ্পি, রুপা ও তার স্বামী আকাশসহ আরও কয়েকজন খুচরা মাদক বিক্রেতার মাধ্যমে একটি বিস্তৃত মাদক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছেন সোহাগী বেগম—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নগরীর বটতলা, চৌমাথা, রুপাতলি, কাটপট্টি, নজিরপোল, সোনালী আইসক্রিম মোড়, গগন গলি, শিশু পার্ক কলোনি, হাটখোলা, পদ্যাবতী, পিয়াজপট্টিসহ প্রায় ১০টি ওয়ার্ডে তার মাদক ব্যবসার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক বিক্রির অর্থ দিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় জমি ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি কুয়াকাটা ও আমতলী এলাকায় তার একাধিক বাড়ি রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের অসাধু সদস্যদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
এ বিষয়ে সোহাগী বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন