বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক
বরিশালের বাকেরগঞ্জে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আওয়ামীলীগ নেত্রী শাহনাজ পারভীন রানী পালিয়েছেন। তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী মহিলা লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের রুনসী গ্রামের নিজ বসতবাড়ি থেকে তিনি পালিয়ে যান।
বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলায় একটি চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি যুগ্ম-দায়রা তৃতীয় জজ আদালতের বিচারক শাহনাজ পারভীন রানীকে বিচারক এক বছরের সাজা দেন। একই সঙ্গে চেকের সমপরিমাণ ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধের আদেশ দেয় আদালত। এ মামলার রায়ের পর থেকে তিনি পালিয়ে ছিলেন। সোমবার বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে আসামি রানী নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ তার নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ও বাড়ীর লোকজন ধস্তাধস্তি করে পুলিশের হাত থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। দল ক্ষমতায় না থাকার পরেও পুলিশের সাথে হাতাহাতি করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাকেরগঞ্জে থানা অফিসার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি রানীকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আসামি পলাতক ছিলেন। সোমবার দুপুরে আসামির তার বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ উক্ত সংবাদ পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য ওই বাড়ীতে গেলে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তিনি পালিয়ে যায়। আসামিকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
আদালত সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে এক ব্যক্তি আদালতে আওয়ামীলীগ নেত্রী শাহানাজ পারভীন রানীর বিরুদ্ধে চেক প্রত্যাখ্যানের মামলা করেন। ওই মামলা আদালত তাকে এক বছরের সাজা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য শাহনাজ পারভীন রানী ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অন্যতম সহযোগী। বিগত সরকারের সময় তিনি দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।