সাক্ষাৎকার ঘিরে উত্তেজনা: সাংবাদিক জাহিদকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলায় প্রার্থী কামরুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

দৈনিক দখিনের কন্ঠ
প্রকাশিত February 22, 2026, 17:17 PM
সাক্ষাৎকার ঘিরে উত্তেজনা: সাংবাদিক জাহিদকে ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলায় প্রার্থী কামরুলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

বাকেরগঞ্জ প্রতিবেদক

বাকেরগঞ্জে সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের প্রাক্কালে বাকেরগঞ্জের প্রতিবাদী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম মনির সংসদ সদস্য প্রার্থী ও চুরির দ্যায়ে সেনা সদস্য বরখাস্তকৃত ব্যক্তি মোঃ কামরুল ইসলাম-এর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে গেলে বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।সাক্ষাৎকার চলাকালে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রার্থী কামরুল ইসলাম সাংবাদিক মনিরকে উদ্দেশ্য করে ‘হলুদ সাংবাদিক’ বলে আখ্যা দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মতে, মন্তব্যটি ছিল আক্রমণাত্মক ও অপ্রত্যাশিত, যা মুহূর্তেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করে।এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বাকেরগঞ্জের সাংবাদিক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক গণমাধ্যমকর্মী এটিকে সাংবাদিকতার মর্যাদার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানান। তাদের মতে, প্রশ্ন করা সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্বের অংশ এবং এর জবাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সাংবাদিকদের প্রতি অসম্মানজনক মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পেশাজীবী সমাজকেই বিব্রত করে। ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তখনই বাংলাদেশ মফম্বল সাংবাদিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাফর আহম্মেদ তার ফেসবুক আইডিতে পোষ্ট করেন এবং প্রার্থী সাকুল্য কত ভোট পান দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সাথে যুগন্তর পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার সাবেক প্রেসক্লাব সভাপতি আলআমিন মিরাজ প্রার্থীকে পাগল আক্ষায়িত করে এমন পাগল ছাগলকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীত্বের সুযোগ দেওয়ায় কমিশনকে প্রশ্নবৃদ্ধ করেন এবং ঘটনার নিন্দা জানান, তিব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিক নিউজ করেন মহাকাল পত্রিকা সম্পাদক কাওছার আহম্মেদ ক্ষনিশ, এছাড়াও প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা মফম্বল সাংবাদিক সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ শিকদার সাংবাদিকদের সন্মানে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রকাশ্য বক্তব্যে পেশাদার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম মনিরের সঙ্গে বিরুপ আচারনের তিব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জাহিদুল ইসলামকে কটাক্ষ করে হলুদ সাংবাদিক বলায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে সকল সাংবাদিকরা তিব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে মতবিনিময় সভায় উপজেলা রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি দানিসুর রহমান লিমন বলেন জাহিদুল ইসলাম উপজেলার একজন পেশাদার ও দায়িত্বশীল প্রতিবাদি সাংবাদিক ওকে নিয়ে প্রার্থীর এমন আচারন মেনে নেওয়া যায় না তিনি ঘটনার তিব্র নিন্দা জানিয়েছেন এছাড়া উপজেলা সাংবাদিক ক্লাবের সভাপতি জুয়েল তালুকদার সঙ্গে সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের মন্তব্য তুলে ধরে সাংবাদিক নিয়ে প্রার্থী কামরুলের মন্তব্যর প্রতিবাদ জানান।

 

ঘটনার শিকার সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেন কুকুরে কামড় আর পাগলের মন্তব্যয় প্রতিবাদ করতে নেই তাই তিনি দৈর্য রাখছেন নতুবা একজন প্রার্থীর এ ধরনের আচরণ কোনোক্রমে মেনে নেওয়া যায় না। এদিকে সদ্য নির্বাচনে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কামরুল ইসলাম ৩৪৪ ভোট পেয়েছেন বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

 

তবে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরও তার মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক থামেনি; বরং স্থানীয় সাংবাদিক মহল বিষয়টির ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনে দুঃখপ্রকাশ প্রত্যাশা করছেন। সচেতন মহল মনে করছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি। মতের ভিন্নতা থাকলেও তা প্রকাশের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box