সরিয়ে দেওয়া হলো বিসিসির বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে

দৈনিক দখিনের কন্ঠ
প্রকাশিত August 20, 2026, 10:09 AM
সরিয়ে দেওয়া হলো বিসিসির বিতর্কিত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে

দখিনের কন্ঠ ডেস্ক 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারীকে সরিয়ে দিয়েছে সরকার। তাঁকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

এদিকে গত দেড় বছর বরিশাল সিটি করপোরেশনে থাকাকালে কুয়াকাটায় রিসোর্ট প্রকল্প, ভবনের প্ল্যান অনুমোদনের নামে রেজাউল বারীর নানা দুর্নীতি তদন্তের দাবি করেছেন নগরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

 

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ মার্চ বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে যোগদান করেন মো. রেজাউল বারী। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় না থাকার সুযোগে সিইও রেজাউল বারী ছিলেন বিসিসির একচ্ছত্র ক্ষমতাবান কর্মকর্তা। সিটি করপোরেশনে পদোন্নতি, নিয়োগ, কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা এবং ভবনের প্লান অনুমোদনের নামে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

 

সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, রিসোর্ট, প্লান, পদায়ন, নিয়োগ এই সবকিছুতে সিইওকে সহযোগিতা করে আসছেন করপোরেশনের কয়েকজন স্টাফ। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নগরভবনে যত দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে।

 

 

গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী আ. রশিদ নিলু বলেন, সিটি করপোরেশনের রিসোর্ট করার জন্য জমি কেনা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। উচ্চ আদালত জমি ক্রয়ের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। তৎকালীন প্রশাসক রায়হান কায়ছার বিসিসির সিইও রেজাউল বারীকে নিয়ে রিসোর্ট, ভবনের প্লান অনুমোদনে লুটপাট করেছেন।

 

তিনি বলেন, বিসিসি জনগণের টাকায় বিলাসী রিসোর্ট করবে, এটা মানা যায় না। এসবের তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।

 

 

জানতে চাইলে সদ্য বদলি হওয়া বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, তিনি বদলির একটি আদেশ হোয়াটসঅ্যাপে পেয়েছেন। প্রশাসক যখন তাঁকে ছাড়বেন তখন তিনি বিদায় নেবেন। করপোরেশনের পক্ষ থেকে কুয়াকাটায় রিসোর্ট করা, প্ল্যান অনুমোদনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

 

বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, সিইও স্যার বদলি হয়েছেন এমন একটি খবর শুনেছি। স্যারকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু রিসিভ করেননি।

 

 

 

Facebook Comments Box